Bangla And English Newspaper of Bangladesh.

Full width home advertisement

বিনোদন

বিনোদন

Post Page Advertisement [Top]

চট্টগ্রাম থেকে: চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের পাশেই বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপি) অবস্থান। সেখান থেকে ছাত্ররা মাঠে এসেছিলেন রোল মডেল তামিম ইকবালের ব্যাট দেখবে বলে।

তামিম মাঠে নামার আগে এ ক্ষুদে ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস ছিল আকাশছোঁয়া। গ্যালারিতে তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে চিৎকার করে বলতে থাকে ‘তামিম ভাইয়ের ব্যাটিং দেখতে চাই।’

 ‘তামিম ভাইয়ের ব্যাটিং দেখতে চাই’। ১৩/১৪ বছর বয়সের রুবেল, সুজন, সুমন বিপুলরা একসুরে বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা বড় রান করেছে তাতে কী হয়েছে? আমরাও পারবো, তামিম ভাই আছে না! সে একাই ডাবল সেঞ্চুরি করবে।’


 টেস্ট ম্যাচ হলেও অফিস ছুটি নিয়ে স্ত্রী-পুত্র নিয়ে মাঠে আসা চট্টগ্রামের তামিম ভক্ত দর্শক আবুল হোসেন বলেন, ‘যে পরিস্থিতি, তাতে এখন ম্যাচ জিতার আশা নেই। কিন্তু তিনি যদি শুরুটা ভালো করতে পারেন তাহলে ড্র হতে পারে।

কিন্তু এখানে তার আসল রূপ দেখা যায় না। ভালো কিছু করতে পারেনি এখনো। অবশ্য আজ আমাদের আশা সে কিছু করবেই! আমি তার বড় ভক্ত। তাই ছেলেকে দেখাতে এনেছি তামিমের ব্যাটিং।

’ এমন সময় দর্শকরাও ‘তামিম’ ‘তামিম’ বলে চিৎকার করছিলেন। কিন্তু ঘরের মাঠের দর্শকদের আকুতি হয়তো পৌঁছেনি তামিমের কানে। প্রথম ইনিংসে ৫২ রানে আউট হয়েছিলেন।

গতকাল তাও হলো না। বাজে শটে দলকে বিপদে ফেলে ফিরলেন ৪১ রান করে। মাথা নিচু করে ফেরেন সাজঘরে। তার ব্যাটিংয়ের দাপট দেখার আশায় মাঠে থাকা দর্শকরা হতাশ হয়ে বের হয়ে যেতে শুরু করেন মাথা নিচু করে।

দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সব ফরমেটেই সর্বোচ্চ সংগ্রহ এ ব্যাটসম্যানের। এরই মধ্যে দেশের তিন ফরমেটের ক্রিকেটে ছুঁয়েছেন ১১ হাজার রানের মাইলফলক।


কিন্তু চট্টগ্রামের ছেলে নিজ মাটিতে একেবারেই ম্লান। স্টেডিয়ামের নিরাপত্তায় নিয়োজিত চট্টগ্রামের এক পুলিশ অফিসারও এগিয়ে এসে বললেন, ‘দেখেন আজ কিন্তু তামিমকে ভালো খেলতেই হবে। আমরা তো তার কোনো বড় ইনিংস এখানে দেখতে পেলাম না। নিজের শহরে তাকে আমরা আসল রূপে কখনো দেখিনি।’

সেই সময় পুলিশ অফিসারের সঙ্গে সুর মেলালেন কয়েকজন সাধারণ দর্শকও। চট্টগ্রামবাসীর কথাতেও ভুল নেই। পরিসংখ্যান বলেছে ৫৩ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তামিম এখানে খেলেছেন ১৪ টেস্ট। কিন্তু সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাত্র একটি, আছে ৭ ফিফটি। ২৭ ইনিংসে ৩৪.৪৬ গড়ে করেছেন ৮৯৬ রান।

তামিমের সমান ম্যাচ, সেঞ্চুরি ও ফিফটি হাঁকালেও চট্টগ্রামে হাজার রানের মালিক বগুড়ার ছেলে মুশফিকুর রহীমের। তবে চট্টগ্রামের আরেক সন্তান কক্সবাজারের মুমিনুল হক তার সমান ম্যাচে ৭৮২ রান করলেও হাঁকিয়েছেন চার সেঞ্চুরি ও এক ফিফটি। এখানে তামিমের ব্যাট থেকে টেস্টে সর্বোচ্চ ইনিংস ১০৯ রানের।

অন্যদিকে ১৪ ওয়ানডে খেলে তামিম সাগরিকার মাঠে সর্বোচ্চ ৪৯৭ রান করলেও নেই কোনো সেঞ্চুরি। একবারই ৯৫ রান করে দর্শকদের আশার অনেকটা কাছে গিয়েছিলেন।


তাই চার ফিফটিই তার সফলতা। ওয়ানডেতেও তার পরেই ১৫ ম্যাচে ২৭২ রান করে আছেন মুশফিক। তারও নেই কোনো সেঞ্চুরি। এখন পর্যন্ত এখানে এক মাত্র সেঞ্চুরির মালিক সাকিব আল হাসান।

অন্যদিকে সাগরিকায় টি-টোয়েন্টিতে তামিমের অবস্থা আরো বাজে। ৪ ম্যাচে এক ফিফটিতে সাকিব আল হাসানের সংগ্রহ সর্বোচ্চ ১৫০ রান। এরপর ১০০ রান করে দ্বিতীয় অবস্থানে এনামুল হক বিজয়। আর সমান ম্যাচে তামিম মাত্র ৬২ রান করতে পেরেছেন।

তিন ফরমেটেই দেশের সর্বোচ্চ রান তামিমের ব্যাট থেকে এলেও তিনি তার নিজ এলাকার দর্শকদের ভালো কিছু উপহার দিতে ব্যর্থ হয়েছেন বারবার। সূত্র: মানবজমিন


No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]

| Designed by Colorlib