বিপক্ষে ভোট পড়ে ৯টি। ৩৫টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যে ঘোষণা দিয়েছেন তা ‘অকার্যকর’ এবং তা অবশ্যই বাতিল করতে হবে।
জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদে গতকাল জেরুজালেম ইস্যুতে তুরস্ক ও ইয়েমেনের উত্থাপিত প্রস্তাবে ভোটাভুটি হয়।
ভোটের একেবারে আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বক্তব্যদানকালে হুমকি দেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি পিছপা হবেন না। তিনি বলেন, ‘তারা (আমাদের কাছ থেকে) লাখ লাখ, এমনকি কোটি কোটি ডলার নিয়ে যায় এবং এরপর আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দেয়।
বেশ তো, আমরা ওই সব ভোটের দিকে নজর রাখছি। ওদেরকে আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দিতে দিন। আমরা আমাদের দিকটা দেখব।
আমরা পরোয়া করি না। ’এর আগে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত নিকি হ্যালিও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোটদানকারী দেশগুলোকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। আর ট্রাম্প এরপর বলেছেন, ‘নিকি, একদম ঠিক বার্তাটাই দিয়েছেন। ’
এসব হুমকি-ধমকির মধ্যে সাধারণ পরিষদের একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি উপেক্ষা করে কানাডা, হাঙ্গেরি ও চেক রিপাবলিক সম্ভবত তুরস্ক-ইয়েমেনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে আরব রাষ্ট্রগুলোও।
গত ১৩ ডিসেম্বর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) এক জরুরি সম্মেলনে আরব দেশগুলো পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
এসব দেশ সাধারণ পরিষদেও তাদের অবস্থান বজায় রাখছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। এ ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী-অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোও রয়েছে, যারা গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেম ঘোষণার প্রত্যাহার চেয়ে মিসরের উত্থাপিত প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়।
গতকাল সাধারণ পরিষদের ভোটের আগমুহূর্তে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান রাজধানী আংকারায় এক টেলিভিশন বক্তব্যে বলেন, ‘পুরো বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, সামান্য ডলারের বিনিময়ে আপনাদের গণতান্ত্রিক অভিলাষকে কিছুতেই বিকিয়ে দেবেন না।
’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে চলেছেন এরদোয়ান। গত সপ্তাহে ওআইসির জরুরি সম্মেলনও তিনিই ডেকেছিলেন। ইসরায়েলকে তিনি বারবার ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ অ্যাখ্যা দিচ্ছেন।
এদিকে ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালকি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সদস্যদের ‘হুমকি’ দিয়ে ‘আরেকটা ভুল’ করল। তিনি আরো বলেন, ‘কয়টি দেশ তাদের বিবেকবোধ থেকে ভোট দেয়’ সেটা সাধারণ পরিষদের ভোটাভুটিতে স্পষ্ট হয়ে যাবে।
বলা দরকার, নিরাপত্তা পরিষদের গত সোমবারের ভোটাভুটিতে পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দিয়েছে বটে, তবে সাধারণ পরিষদে ভেটো দেওয়ার কোনো নিয়মই নেই। নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো মানে উত্থাপিত প্রস্তাব পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাওয়া।
অন্যদিকে সাধারণ পরিষদে পক্ষে-বিপক্ষে ভোটদানের সুযোগ রয়েছে এবং কোনো সদস্য চাইলে ভোটদান থেকে বিরত থাকতে পারেন, এমনকি অধিবেশনে অনুপস্থিতও থাকতে পারেন।
এ প্রেক্ষাপটে সাধারণ পরিষদের ভোটে তুরস্ক-ইয়েমেনের প্রস্তাবের পক্ষে সর্বাধিক ভোট পড়লে সেটাকেই গ্রহণ করবে জাতিসংঘ। যদিও এ প্রস্তাব মানার কোনো বাধ্যবাধকতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই; কিন্তু এ প্রস্তাবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতির মধ্য দিয়ে বাকি বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা আরো প্রকট হয়ে উঠবে।
সাধারণ পরিষদের ভোটের ফল প্রকাশের আগেই সেটা প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
জাতিসংঘকে ‘মিথ্যার আবাসস্থল’ অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিক বা না দিক, জেরুজালেম ইসরায়েলের রাজধানী। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ স্বীকৃতি পেতে ৭০ বছর লেগেছে। জাতিসংঘের কাছ থেকে সেই স্বীকৃতি পেতে আরো বহু বছর লেগে যাবে। ’ সূত্র : এএফপি।



No comments:
Post a Comment