আরবদেশগুলো এবং অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) পক্ষ থেকে তুরস্ক ও ইয়েমেন গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের জরুরি অধিবেশন আহ্বান করে এবং ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণা বাতিলের প্রস্তাব উত্থাপন করে।
আজ বৃহস্পতিবার এ নিয়ে ভোটাভুটি হবে। এর আগে গত সোমবার ১৫ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একই বিষয়ে অনুষ্ঠিত ভোটে বাকি ১৪ সদস্যের সম্মতি মিললেও সবার বিপরীতে একা ভেটো দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যদের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকলেও ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদে এ ধরনের কোনো সুযোগ নেই।
তুরস্ক ও ইয়েমেনের প্রস্তাব উত্থাপনের দিনই জাতিসংঘে নিযুক্ত বেশ কয়েকটি দেশের দূতকে চিঠি দিয়ে সতর্ক করে দেন সংস্থায় নিযুক্ত মার্কিন দূত হ্যালি। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) এ ভোটের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখবেন এবং তিনি অনুরোধ করেছেন, যেসব দেশ আমাদের বিরুদ্ধে ভোট দেবে, তাদের নামগুলো যেন আমি জানাই।
এ ইস্যুতে প্রত্যেকটি ভোট আমরা খেয়াল রাখব। ’ কেবল জাতিসংঘ দূতদের চিঠি দিয়ে নয়, টুইটারে প্রকাশ্যে সতর্ক করে দিয়ে হ্যালি লিখেছেন, ‘বৃহস্পতিবার আমাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমালোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্র নামগুলো টুকে নেবে।
’
জাতিসংঘে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি দূত রিয়াদ মানসুর আজকের ভোটে জেরুজালেম ইস্যুতে ফিলিস্তিনের প্রতি বিপুল সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ভেটোর আতঙ্কমুক্ত হয়ে সাধারণ পরিষদ ঘোষণা করবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় (জেরুজালেমে প্রসঙ্গে) যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অবস্থানের প্রতি সম্মতি জানাতে অস্বীকার করছে। ’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান ও ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তেলআবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেবেন বলে ঘোষণা দেন। এক সপ্তাহের মাথায় আরবদেশগুলোর মুখপাত্র ওআইসি পাল্টা ঘোষণায় পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ স্বাধীন ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বাকি বিশ্বকে এতে সম্মতি দেওয়ার আহ্বান জানায়।
আরববিশ্বের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য মিসরের আহ্বানে গত সোমবার এ ইস্যুতে পরিষদে ভোট হয়।
সর্বশেষ তুরস্ক ও ইয়েমেন সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে ভোটের আহ্বান জানিয়েছে। মিসরের মতো এ দুটি দেশও তাদের প্রস্তাবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করার পরিবর্তে ‘জেরুজালেমের মর্যাদার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করেছে।
হ্যালি তাঁর মঙ্গলবারের টুইটার বার্তায় বলেছেন, ‘জাতিসংঘে সব সময় আমাদের বেশি কাজ করতে এবং দিতে বলা হয়। সুতরাং কোথায় আমাদের দূতাবাস বসবে, সে ব্যাপারে আমেরিকান জনগণের ইচ্ছায় আমরা যখন সিদ্ধান্ত নিই, তখন আমরা সেই সব দেশের কাছ থেকে বিরোধিতা আশা করি না। ’
গত শতকে দুই দফা যুদ্ধে গোটা জেরুজালেমে নিজেদের দখল নিশ্চিত করে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল। এই দখলদারি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সব সময় অবৈধ অ্যাখ্যায়িত হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবার মতামত আর ফিলিস্তিনিদের অধিকার পুরোপুরি উপেক্ষা করে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। সূত্র : এএফপি।



No comments:
Post a Comment