গতকাল সোমবার খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের রায়ের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছে, এই মামলার দণ্ডিত আসামিদের পরস্পরের যোগসাজশে সরকারি এতিম তহবিলের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। খালেদা জিয়া সে সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
রায়ে আদালত আরও বলেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বগুড়ার গাবতলী থানার দাড়াইলে জমি কেনা হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো স্থাপনা তৈরি করা হয়নি। আগে কিংবা বর্তমানে কোনো সময়ই সেখানে এতিমখানা স্থাপন করা হয়নি।
অর্থাৎ খালেদা জিয়া ও কামাল সিদ্দিকী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দিয়েছেন অথচ কোনো এতিমখানা তৈরি করা হয়নি। নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার অপরাধের দায় তাঁরা কোনোভাবে এড়াতে পারেন না।
আর তারেক রহমান ও মমিনুর রহমান ওই ট্রাস্টের ট্রাস্টি হয়ে সরকারি টাকা থেকে চার লাখ টাকা তুলে নেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা দিয়ে ২ দশমিক ৭৯ একর জমি কিনলেও সেখানে কোনো স্থাপনা তৈরি করেননি কিংবা কোনো এতিমখানা বানাননি। এভাবে তাঁরা টাকা আত্মসাৎ প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় বিশেষ আদালত। এরপর খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারে রাখা হয়েছে।



No comments:
Post a Comment