বেলা ২টা ১০ মিনিট থেকে ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় কমিশনের অন্য কোনো সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন না।
নূরুল হুদার এক বক্তব্য তুলে ধরে জানতে চাওয়া হয়, আপনি বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে সেটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না।
তিনি বলেছেন, ‘এখন যে অবস্থানে (খালেদা জিয়া) আছেন, এই অবস্থানে থেকে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এখন তিনি কনভিকটেড (দণ্ডিত)। এরপর সুপিরিয়র কোর্টে (সর্বোচ্চ আদালতে) গেলে যে রকম নির্দেশ আসবে, সেরকম হবে।
তবে উচ্চ আদালত এই বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সে অনুসারে কাজ করতে বাধ্য।’
গতকাল সুপ্রিমকোর্টে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে তার খাস কামরায় সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সিইসি।
এরপর, এখন উচ্চ আদালত থেকে আপিল নিষ্পত্তি হয়ে যদি এরকম একটা পরিস্থিতি হয় যে, বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে আসতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে কী বলবেন? উত্তরে সিইসি বলেন, এত দূরের কথা বলা যাবে না। এখনও তো অনেক সময় আছে। নির্বাচন তো অনেক দূরে।
কী অবস্থা হবে তা বলা মুশকিল, কঠিন। আমাদের উচ্চ আদালত আছে, সুপ্রিমকোর্ট আছে, তারপর আমরা আছি। আশা করি এই সমস্যার সমাধান হবে। এবং আমি এও আশা করি যে, খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং সব সমস্যার সমাধান করে। এটা আমার প্রত্যাশা। এখন কোর্টের যে সিদ্ধান্ত, সেটা তো আমাদের মানতে হবে।
জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে খালেদা জিয়া গত ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার পর থেকে তার নির্বাচনে অংশ নেওয়া, না নেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় কারও ন্যূনতম দুই বছর কারাদণ্ড হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। কিন্তু বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং উচ্চ আদালত মামলা স্থগিত করে জামিন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচন করতে পারবেন কি পারবেন না, এ নিয়ে বিতর্ক চলছে।
ফলে আইনি ব্যাখ্যারও প্রয়োজন আছে। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনো আলাপ হয়েছে কি না- জানতে চাইলে কেএম নূরুল হুদা বলেন, খালেদা জিয়ার মোকদ্দমা নিয়ে এখানে কোনো কথা হয়নি।
আইনত তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কি না তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার যেটা মনে হয়, আমিও তো একজন বিচারক ছিলাম। ছোটখাটো। এডিএম (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) ছিলাম।
সামান্য জ্ঞানে যেটা মনে হয়, এখন যে অবস্থানে আছেন, এখন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এখন তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত। এরপর উচ্চ আদালতে গেলে যেরকম নির্দেশ দেবেন, সে রকম হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়টির জন্য উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকবেন? প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, হ্যাঁ। উচ্চ আদালতে উনারা যদি যান, তারা যদি আপিল করেন তখন একটা পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত আপিল করেননি তাই এখন আরেকটা পরিস্থিতি। এখনও তিনি আপিল করেননি, সে পরিস্থিতি হলে সেটা তো বললাম। যেহেতু আপিল করেননি তার মানে দণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় আছেন। সুতরাং এই অবস্থায় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করেন বিশেষ আদালতের বিচারক ডা. মো. আখতারুজ্জামান। রায়ে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। এদের মধ্যে তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১০ সালের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপপরিচালক হারুন-আর রশিদ। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়।
রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
বিডি২৪লাইভ



No comments:
Post a Comment