Bangla And English Newspaper of Bangladesh.

Full width home advertisement

বিনোদন

বিনোদন

Post Page Advertisement [Top]

সারাক্ষণ খেলা হয়েছে ভুটানের ডিফেন্সে; কিন্তু গোল হয়েছে মাত্র তিনটি। আক্রমণের সঙ্গে গোলের হিসাবে বড় গরমিলের কারণ ভুটানের ‘নেগেটিভ ফুটবল’।

আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়ে অনেক গোলের সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত ভুটানকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশের কিশোরী ফুটবল দল পৌঁছে গেছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলের ফাইনালে। স্বাগতিকদের মতো ৬ পয়েন্ট পাওয়া ভারত অন্য ম্যাচে নেপালকে উড়িয়ে দিয়ে গেছে ফাইনালে।

ফাইনালের আগে আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারত গ্রুপে মুখোমুখি হবে ড্রেস রিহার্সালে। আগের ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ৬-০ গোলে জয়ী  বাংলাদেশের কাল ভুটানকে উড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল। দুই তরফে শক্তির বিচারে তাই হওয়া উচিত ছিল। কখনো কখনো তো চাওয়া মেনে সব হয় না। 

ম্যাচ শেষে গোলাম রব্বানী ছোটনের মুখে তাই একটুখানি হতাশা, ‘আর দু-তিনটা গোল হলে ভালো হতো। আমাদের পজেশন ও ১৩টি কর্নার পেয়েও তিন গোলের বেশি গোল বের করতে পারিনি। এ ব্যাপারে মেয়েদের সঙ্গে কথা হয়েছে।

মেয়েরা চেষ্টা করেছে। ভুটানের বিপক্ষে মেয়েরা খেলেছে, আক্রমণে কোণঠাসা করেও সেভাবে সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে মেয়েরা অনেক সুযোগ তৈরি করতে পেরেছিল। কিন্তু এ ম্যাচে তারা সেটা পারেনি। ভুটান নেগেটিভ ফুটবল খেলায় সেটা হয়নি। ’ আঁখির জোড়া গোলে রক্ষা পেয়েছে।

আক্রমণাত্মক খেলার লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে নামা বাংলাদেশ ম্যাচের শুরু থেকে ভুটানের রক্ষণে চাপ দিতে থাকে। দ্বাদশ মিনিটে এগিয়ে যাওয়া গোলও পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।

 বাঁ দিক থেকে মার্জিয়ার কর্নারে আঁখি খাতুনের হেড চোখের পলকে জালে জড়ায়। ডিফেন্ডারদের কড়া প্রহরায় থাকা মনিকা চাকমার ২৮ মিনিটে প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। ডি বক্সের বাইরে থেকে এই ফরোয়ার্ডের নেওয়া শট ক্রসবার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ১০ মিনিট পর গোলপোস্ট দাঁড়ায় বাধা হয়ে।

 ছোট বক্সের ভেতর থেকে আনাই মগিনির নেওয়া শট পোস্টে লেগে ফেরার পর মার্জিয়ার ফিরতি প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে ফেরান ভুটানি গোলরক্ষক। একটু পর মার্জিয়ার আরেকটি শটও আটকে দেয় কার্মা উদেন।

 বিরতির পরও সেই চাপ অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ এবং ৫৫ মিনিটে আবার আঁখির পায়ে গোলের ঘনঘটা। মার্জিয়ার কর্নার কিকে নেওয়া তার সাইড ভলিতে পরাস্ত গোলরক্ষক।

৬১ মিনিটে আবারও ব্যবধান বড় করার সুযোগ নষ্ট করে দেয় গোলপোস্ট। বাইরে থেকে অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার বাঁ পায়ের শট গোলরক্ষককে ফাঁকি দেওয়ার পর পোস্টে লেগে ফেরে।

 ১০ জন মিলে ডিফেন্স প্রহরা দেওয়া দলে যেন আরেক ডিফেন্ডার হয়ে গেছে গোলপোস্ট! এরপর তহুরার বদলি হয়ে নামা সাজেদা খাতুনের গোলে ৭৯ মিনিটে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় অনেকখানি। 

বাঁ দিক দিয়ে একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে ওঠা এই ফরোয়ার্ডের নেওয়া শট দূরের পোস্টের ভেতরের কানায় লেগে জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করে আঁখি দারুণ খুশি, ‘সবাইকে ধন্যবাদ। আজকের ম্যাচটা আমরা জিতেছি। এই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে জোড়া গোল করলাম।

 আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আমরা ভারতের বিপক্ষে পরের ম্যাচে ভালো খেলতে পারি। হ্যাটট্রিক পাইনি বলে খারাপ লাগার কিছু নেই। দল জিতেছে, দলের জয়ই বড় কথা। ’

ভারতের বিপক্ষে দারুণ এক ম্যাচ উপহার দেওয়ার চিন্তা আছে বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের, ‘আমাদের লক্ষ্য ফাইনাল খেলা, সেটা পূরণ হয়েছে। 

তবে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিও বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাদের আমরা হারাতে পারি, সেটা আমাদের ফুটবলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

 এ জন্য সর্বোচ্চটুকু দিয়ে আমরা ভারতের বিপক্ষে খেলতে নামব। দর্শকদের ভালো খেলা উপহার দেওয়া আমাদের আরেকটি লক্ষ্য, সেটাও পূরণের চেষ্টা করব। ’ এই ম্যাচ হারলেও কোনো ক্ষতি নেই বাংলাদেশের। কিন্তু স্বাগতিক কোচ হারতে চান না বরং ফাইনালের আগে হারিয়ে এক দফা আত্মবিশ্বাস সঞ্চয় করতে চান।

 তাই লিগ ম্যাচ বলে উপেক্ষা করছেন না, কাউকে বিশ্রামেও পাঠাবেন না। পুরো শক্তির দল নিয়েই বাংলাদেশ নামবে ভারতের বিপক্ষে। এ ম্যাচ জিতেই বুঝিয়ে দিতে চায়, এই অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে স্বাগতিকরাই ফেভারিট।

No comments:

Post a Comment

Bottom Ad [Post Page]

| Designed by Colorlib